• শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৬ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
ঠাকুরগাঁও-১ আসনে জামানত হারালেন তিন প্রার্থী নীলফামারীতে তিন দিনের ইজতেমা শুরু ভোটের দিনে লিফলেট বিতরণের দায়ে জামায়াত নেতার অর্থদন্ড নীলসাগর ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত, ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগ বন্ধ বিশ্ব স্ট্রোক দিবস: স্ট্রোকের ঝুঁকি, রিহ্যাবের সংকট ও পুনর্বাসনে সচেতনতার আহ্বান তুরাগ নদ থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার হত্যা মামলায় মাগুরার সাবেক ওসি ও এসআই জেলহাজতে ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে ৯ কর্মকর্তা প্রত্যাহার সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় জলঢাকা পৌরসভার সাবেক মেয়র গ্রেপ্তার রানীরবন্দরে বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী ব্যবসায়ী নিহত

নাগেশ্বরীতে ৬ সাঁকোর গ্রাম আজমাতা

1111খলিলুর রহমান, নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম): আধুনিক সভ্যতার যুগেও বিভিন্ন নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার আজমাতা গ্রামের মানুষ। গ্রামটির চারিদিকে ফুলকুমর ও মরা দুধকুমর নদী বেষ্টিত। অবহেলিত এ গ্রামের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না থাকায় বর্ষা মৌসুমে তাদের দুঃখ-কষ্টের সীমা থাকে না। ভালো রাস্তাঘাট না থাকায় জরুরি ভিত্তিতে জেলা বা উপজেলা সদরে যোগাযোগ করতে পারে না। উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত ঘেষা আজমাতা এই গ্রাম। কৃষির ওপর নির্ভরশীল এ গ্রামের মানুষ। কৃষি পণ্য উৎপাদন করে সেখানে ভালো কোনো হাটবাজার না থাকায় ন্যায্য মূল্যে বিক্রি করতে পারে না তারা। রাস্তাঘাটের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পরতে হয় তাদের। শিা-দারিদ্র্য আধুনিক সভ্যতার সবদিক থেকে পিছিয়ে রয়েছে এ গ্রামের মানুষ। প্রতি বর্ষা মৌসুমে বাঁশের নড়বড়ে সাঁকো কিংবা কলা গাছের ভেলায় চরে তাদের এ গ্রাম থেকে ওই গ্রামে যেতে হয়। বাঁশের তৈরি সাঁকো দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কোমলমতি ছেলেমেয়েরা স্কুলে পড়তে যায়। ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠিয়ে অভিভাবকদের দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়। আজমাতা গ্রামে ভালো শিা প্রতিষ্ঠান নেই। দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকলেও ওই বাঁশের সাঁকো দিয়ে পার হয়ে স্কুলে যেতে হয়। আবার অনেক অভিভাবকের শিার প্রতি আগ্রহ না থাকায় ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠানো সম্ভব হয় না। গ্রামটিতে ৬টি বাঁশেরক সাকো দিয়ে চলাচল করতে হয় ওই গ্রামের মানুষের। ফলে গ্রামটিতে শিার হার খুবই কম। ক¤েপরহাট নামক স্থানে ১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থাকলেও ১ যুগ ধরে শিকদের বিল-বেতন না হওয়ায় শিকরা পাঠদান ছেড়ে দিয়ে বিভিন্ন পেশায় চলে গেছে। বিদ্যুৎ নেই, গ্রামের অধিকাংশ মানুষ শিার আলো থেকে বঞ্চিত। এ অবহেলিত জনপদে প্রায় ৩২শ লোকের বসবাস। গ্রামের এ পাড়া থেকে ও পাড়া যেতে ৬টি বাঁশের সাঁকো পার হতে হয়। আজমাতা গ্রামের ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জালাল উদ্দিন জানান- আমার ওয়ার্ডটি সবচেয়ে অবহেলিত। আমি পরপর ৩বার এ ওয়ার্ড থেকে ইউপি সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছি। এখানকার প্রায় ৬৮ ভাগ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে। সরকারি রিলিপ-¯িপ অন্যান্য মেম্বাররা যা ভাগ পায়, আমিও তা পাই। কিন্তু দারিদ্র্যের সংখ্যা বেশি হওয়ায় বিতরণ করতে গিয়ে সমস্যায় পরতে হয়। তাছাড়া এ অবহেলিত জনপদ থেকে নাগেশ্বরী উপজেলা সদর যেতে প্রতিনিয়ত পার্শ্ববর্তী ভূরুঙ্গামারী উপজেলা সীমান্তের ওপর দিয়ে যেতে হয়। ইউনিয়ন পরিষদও অনেক দূরে। ডিজিটাল বাংলাদেশে  নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত এখানকার মানুষ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ